Home / Events / Festival Celebration, উৎসব উদযাপন, আসমা খান

Festival Celebration, উৎসব উদযাপন, আসমা খান

 Festival Celbration, উৎসব উদযাপন,  আসমা খান

মানুষ উৎসবে মুখর হয়। সে উৎসব যদি রাস্ট্র, ধর্ম আর সামাজিক নিরাপত্তা পায় তা হতে পারে জাতীয়, সার্বজনীন কালজয়ী। আসলে উৎসব হচ্ছে আনন্দের সংকলন। মানুষের জীবনের বর্ণিল, দ্যুতিময়, অনুভব। এতে বৈচিত্র আছে, নুতনত্ব আছে। ওতঃপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে স্থান, কাল, পাত্র, শিল্প, সাহিত্য, চলৎচিত্র, খানাপিনা, পোষাক, আচার, অনুষ্ঠান, দায়িত্ব ও কর্তব্য,অধিকার। আমাদের ঈদ উৎসব এমন একটি ধর্মীয় সামাজিক উৎসব। ‘কানাডা ডে’ রাস্ট্রীয় উৎসব।

যতদুর মনে পড়ে আমাদের সেই শৈশবে বছরের হিসেব আবর্তিত হতো রeমজান এবং ঈদকে কেন্দ্র করে। রোজাকে বাদ দিয়ে ঈদের আলোচনা অসম্পুর্ন। রোজা মানে কি? রমজানে এক কিশোরীর প্রথম পিরিওডে মা তাকে খাবার দিয়ে বললেন ‘চুপচাপে খেয়ে নাও, কেউ যেন না দেখে’।  খানিক পরে মেয়ে মুখ শুখিয়ে এসে মাকে জানায় সে খেতে পারেনি, ‘কারন কেউ না দেখলেও আল্লাহ তো দেখছেন!’

মাস ব্যাপী রোজা আসলে নিজেকে, সমাজকে, আল্লাহকে জানতে শেখায়।

নিজে ক্ষুধার্থ নাহলে ভুখা লোকের কস্ট বুঝবেনা। তো রোজার মাসটা এত খরুচে কেন? বাজার হাট এত রম রমা কেন, ইফতারে এত জৌলুসের আয়োজন কেন? আত্বশুদ্ধির ধারটা পরখ করা? একেবারে ছোট্ট বাচ্চাও কেন সামনে ইফতার নিয়ে অসীম ধৈর্য্য অপেক্ষা করে মাগরিবের আযানের জন্য। কারন রমজানে দ্বন্দময় বাস্তবের এই জীবনে সুক্ষ, অস্পস্ট বোধ, অতীন্দ্রিয় আধ্যাত্বিকতার আলোয় কোন অচীনের পথ নির্দেশ করে ধীরে ধীরে, ব্যাখ্যাতীত ভাবে।

জামাতে ঈদের নামাজ, যাকাত, ফিতরা দেয়া, কবর জিয়ারত করা, নুতন কাপর পড়ে জৌলুসের খানাদানা আর মেহমানদারী, পারিবারীক পরিমন্ডলে আনন্দ উপভোগ মোটামোটি এই হোল দেশে দেশে যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের ঈদ উদযাপন। মুসলমান দেশগুলি রাস্ট্রীয় ছুটি দেয়, চাকরীতে বোনাস দেয়, ব্যাবসায় ছাড় দেয় আর সামাজিক উৎসবের সংকলনে যোগ হয় নুতন নুতন আনন্দিত বিস্ময়! রাস্ট্রের সাথে ধর্মের আঁতাত ও বৈধতা ঈদ উৎসব আমাদের সমাজ জীবনে হয়েছে কালজয়ী।

এবছরে অটোয়ার 3020 Woodroffe Ave  তে  SNMC Center & Masjeed  প্রযুক্তি বান্ধব, এলাকার দৃস্টি নন্দন  চিহ্নিত স্থাপনা। সামনে মসজিদ, লাগোয়া কমিউনিটি হল বিশাল বিশাল দরজা দিয়ে মসজিদের সাথে যুক্ত। সারা বিশ্বের অন্য মানুষের মত মুসলমানেরাও এসেছে স্বপ্নের দেশ কানাডার অটোয়াতে। একেক দেশের মানুষ একেক রকম,খাবার, পোশাক, ভাষা ভিন্ন, এমনকি একই ধর্ম হলেও ধর্মীয় আঁচার ভিন্ন। অরাজক স্বভুমের স্মৃতি নিয়ে সুশৃঙ্খল এদেশে মুসলমানদের হতাশ অসহায় দিন যাপন। ’১৫ তে এসে সদ্য সমাপ্ত  SNMC Center & Masjeed তার ইফতার পোগ্রাম চালু করলো। দলে দলে সপরিবারে বিভিন্ন দেশের, ভাষার মুসলমানরা কমিউনিটি হলে রমজানে প্রতিদিন ইফতারে মিলিত হচ্ছেন। গড়ে তিন থেকে পাঁচ শত লোক ইফতারে আসছেন, খেজুর আর পানি দিয়ে রোজা ভেঙ্গে নামাজ পড়ে সুশৃংখল লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নিয়ে মিলে মিশে খাচ্ছেন দেশী ভি্নদেশীদের সাথে। উল্লেখযোগ্য দিক হোল দেশের মত শুধু গরীব দুঃখিরা মসজিদের ইফতারে আসছেন না, সমাজের মান্যগণ্যরাও আসছেন।(এমনিতেই বারহেভেন অভিজাত এলাকা)।

ঈদের তিনটি জামাত হবে। প্রিয় জন্মভুমি থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে প্রিয়জনের জন্য ভারাক্রান্ত হৃদয়ের অসহায় আকুতি, মিম্বরে দাঁড়িয়ে চমৎকার খোৎবায় প্রাজ্ঞ ইমাম আমাদের যখন বলেন ‘আমাদের প্রিয় নবী (দঃ) এর হৃদয় পড়ে ছিল মক্কায়, কিন্তু, তিনি মদীনাতে শরানার্থি হয়েছিলেন, সেখানেই জীবন কাটিয়েছেন, কবরস্থ হয়েছেন। তেমনি আমাদেরও মন পড়ে থাকে আমদের জন্মভুমিতে, কিন্তু আমরা এদেশে এসেছি, এখানেই আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে ‘কানাডিয়ান ইসলাম’ নিয়ে কাটাতে হবে’, তখন আমাদের মন ছুয়ে যায়।

এবছর সেন্টারে ঈদ ফেস্টিভ্যাল হবে নামাজের পর থেকে সারাদিন। হরেক রকম খাবারের দোকান, উৎসবের বাজার, রঙ বেরঙের বেলুন, বাউন্সিং ক্যাসেল, পণিরাইড, লুটব্যাগ, দ্বীতিয় প্রযন্মের শৈশবকে স্মৃতিময় করার যাবতীয় আয়োজন! পরভূমে নিঃসঙ্গ ব্যাক্তিগত হতাশা, এ যেন সামষ্টিক আশায় রূপান্তর, a New paradigm!!!

*******************************************************************************

’৯৩ সালে বাহরায়েন থেকে তীব্র অনিচ্ছায় আমার স্বামী ওঘরে যখন কানাডার ইমিগ্রেশনের ফর্ম পুরন করছিলেন, এঘরে আমি আমার ছেলে মেয়েদের ব্যাপারটা খোলাসা করতে গিয়ে রীতিমত ধাক্কা খেলাম। আমার ছয় বছরের ছেলে ক্ষুব্ধ স্বরে বলেছিল,

‘আম্মা আপনি কিচ্ছু জানেন না, মানুষ যেখানে Born হয়, সেটাই তার Country!’

তো এ জীবনে রাস্ট্রীয় জন্মদিন হিসেবে ২৩ শে মার্চ, ২৬ শে মার্চ, ১লা জুলাই উদযাপন করেছি। জীবনের প্রথম শ্রেনী থেকে দশম শ্রেণীতক আমাদের  দেশের নাম ছিল পুর্ব পাকিস্তান। প্রতিদিন স্কুলের শুরুতে সারবাঁধা ক্লাসরুমের সামনের বিশাল মাঠের প্রত্যেক শ্রেনী লাইন করে দাঁড়িয়ে চাঁদ তারা খচিত পতাকা উত্তোলনের পর সকলে জাতীয় ন্সঙ্গীত গাইত ‘পাক সার জমীন সাদ বাদ…’। ২৩ শে  মার্চ ছিল পাকিস্তান ডে’ ছুটির দিন।

’৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। একাদশ শ্রেণী থেকে আমাদের পতাকার লাল সবুজের রং, নিজ হাতে বানানো প্রথম জাতীয় পতাকা ( শুরুতে অবশ্য বাংলাদেশের ম্যাপও ছিল লাল গোলকের মাঝে) আর জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি…’ মনের সেই উথাল পাতাল আবেগ কক্ষনো ভোলার নয়। পৃথিবীর ১৯৬ টা  স্বাধীন দেশের মধ্য আমাদের বাংলাদেশ একটি। সেই দেশের পাসপোর্টের পরিচয়ে বিশ্ব-ভুবনে আমার যাত্রা শুরু।

৯৬ সালে বসত করার জন্য কানাডাতে এলাম। রাজধানী অটোয়া হচ্ছে ইংলিশ আর ফ্রেঞ্চের মিতালী শহর। ৯৭ সালে এর দক্ষিন পশ্চিমে যখন বাড়ী কিনে এলাম, ফিচেল ছেলে মেয়ে এলাকার নাম ‘বারহেভেন’কে ডাকতো ‘ফা – আ – র হেভেন’। আমার কাছে অবাক লাগে ‘গ্রিনবেল্ট’ অক্ষত রেখে প্রকৃতির প্রতি বিশ্বস্ত থেকেও কি চমৎকার অতি আধুনিক একটি টাউনশীপ ধাই ধাই করে গড়ে উঠলো চোখের সামনে!

১৪৮তম ‘কানাডা ডে’তে প্রাইম মিনিস্টার স্টিফেন হারপার যখন বলেন ‘বিশ্বের সেরা দেশটি কানাডা’, তখন তা আমাদের আবেগকে উস্কে দেয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কানাডাতে এসেছে, তাদের জাত, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জীবন যাত্রা, স্বভাব, সংস্কৃতি ভিন্ন। কিন্তু নিজ পরিবারের প্রতি, সন্তানের প্রতি, পিতা মাতার প্রতি মমত্বের অনুভব কিন্তু সব্বারই এক, আনন্দ বেদনার সুরও এক। তাই যেকোন দেশী বা ভাষার বা ধর্মের বা সমাজের যেকোন পরিবারে একটু গভীর দৃস্টিতে তাকালে কিন্তু দেখা যায় মায়াময় মানুষগুলিকে। প্রিজমের মত মমত্বের ক্ষমতা চিরন্তন।

এই পাঁচমিশালি ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে মিলেমিশে চলা, এক অভিন্ন সহাবস্থান ভিত্তির পত্তন করা যখন রাস্ট্রীয় নীতি তার ফল অনন্য, মাল্টি কালচারিজম, ডাইভার্সিটির পলিসি সুদুর প্রসারী।

‘O Canada! Our home and native land!’

‘কানাডা ডে’ উপলক্ষে বারহেভেনেই মাতামী হোম চমৎকার আয়োজন করেছে প্রতি বছর। গত কয়েক বছর SNMC এই উৎসব উদযাপনে ‘গোল্ড স্পনসর’। রাতে আকাশে আলোর নাচন দেখতে যাই মনের টানে। এবার তুমুল বৃস্টি সারাদিন। তারাবীর নামাজের শেষে ঘরে ফেরার পথে দেখি আকাশে ‘ফায়ার ওয়ার্ক’!!

‘হ্যাপী কানাডা ডে!’

 

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *